বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১০

“লুঙ্গী” বাপ-দাদার পোশাক, আমার পোশাক; আমি পরুম, তাতে তগর কী???


কত বড় কলিজা? যা গিয়া তর বাপরে জিগা, তর বাপে না পরলে তর দাদারে গিয়া জিগা হেই লুঙ্গি পরছে কিনা? দুই দিনের ইংরেজ ভাতেরে কও Rice।
আমার এক বন্ধু (চান্দি গরম বন্ধু কইতেও মেজাজ খারাপ হইতাছে)। আগে থিকাই পাশ্চাত্য ভাবধারার, বন্ধু মহলে এই রকম দুএকজন থাকতেই পারে। আগেই জানে আমি বাসায় লুঙ্গি পরি। পোলা আইজ কতায় কতায় কয়া ফালাইল যে, লুঙ্গি পড়লে ক্ষেত দেহা যায়। লুঙ্গি নাকি আইজ কাল কামলারা (শ্রমিক, ফেরীওয়ালা, রিক্সাওয়ালারা) পরে। অহনকার পোলাপানের ড্রেস হইল থ্রি-ক্রোয়াটার, হাফ-প্যান্ট অগি-বগি আরও কত কিছু।
মেজাজটা কেমন বিলা অয়??????
ওরে যে উপমা দিয়া যে উত্তর দিছি সেইটা ব্লগে দেয়া যাইবনা। কথা এইটুকুই কাকের পাায় পেখম লাগাইলে ময়ূর হওয়া যায়না। এখন তুমি কাকে ময়ূর ভাববা এইটি তোমার বিষয়। পাশ্চাত্যের ওরা নিজেদের ময়ূর ভাবে, আর এই সব পোলাপান নিজেদের ভাবে কাক। এই সব পুলাপান থ্রি-ক্রোয়াটার, হাফ-প্যান্ট অগি-বগি পইরা যেমন কখনও ময়ূর হইতে পারবেনা, তেমনি আমরা নিজেদের ময়ূর ভাবলে পাশ্চাত্যের ওরাও লুঙ্গি পরে বাঙালি হতে পারবেনা।
পাশ্চাত্যের ওরা নিজেদের সংস্কৃতিকে সবার উপরে রাখছে, সেখানে আমরা কেন নিজেদের তুচ্ছ মনে করব? মনে এমন একটা ভাব যে কেন আনিনা “পারলে বাঙালী হয়ে দেখা?”
আর কিছু বলার নাই প্রতিবাদ স্বরপ উপরের ছবি ফেইসবুকে পি.পি. দিয়া রাখছি।

মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০১০

অভিজাত মহলে ভালবাসা থুক্কু Love দুই প্রকার: Love এবং True Love



আমাদের মধ্যে এক ধরণের অভিজাত শ্রেণী আছে যাহারা পিতার টাকার বদৌলতে মারাত্মক ফ্যাশন সচেতন। তাহাদের চেনার আরেকটি ভাল উপায় হল কথ্য ভাষায় যে শব্দটির সুন্দর বাংলা আছে, কোতাকুতি করিয়া তাহারা তার ইংরেজি বলিয়া থাকে এবং মনে করে ইহাতে তাহাদের আভিজাত্য বৃদ্ধি পাইল। বলার সময়ে তাহারা গলা চাপিয়া রাখিয়া বিশেষ সুরে বলে (আমিও ইহা ভাল রপ্ত করিয়াছি, যদিও গোত্রবুক্ত নই)। বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিক হইয়া যাই তেছে, পাঠক মহলের কাছে আশাকরি বিশেষ এই অভিজাত শ্রেণীর পরিচয় তুলিয়া ধরিতে পারিয়াছি।

মূল বক্তব্যে আসি, মাধ্যমিক জীবন জেলা সদরে সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পার করিয়া উচ্চ মাধ্যমিকে গেলাম রাজধানীর নামকরা এক মহাবিদ্যালয়ে যেখানে উল্লেখিত অভিজাত মহলের বিয়াফক দাপট এবং নারী পুরুষ একত্রে অধ্যয়ন করে।
আমার অভিজাত এ সহপাঠীরা ভালবাসা বলিতে কিছু চিনেনা, তাহারা চিনেন Love। সেই Love আবার দুই প্রকার: Love এবং True Love। Love এবং True Love এর মধ্যে আসমান জমিন নয় ইহকাল পরকাল পার্থক্য।

“আমি তোমাকে Love করি” বলাটা তাহাদের কাছে যতটা সহজ “আমি তোমাকে True Love করি” বলাটা নাকি ততটাই কঠিন। শুধু Love একটু হালকা মাত্রার জিনিস (সময় ক্ষেপন-সময় ক্ষেপন ভাব), কিন্তু True Love বিষয়টা বিপরীত মেরুর বিষয়। Love এর দৌড় যেখানে বেনসন পর্যন্ত শেষ, True Love সেখানে ইয়াবা পর্যন্ত যেতে পারে।

প্রশ্ন হতে পারে আমি হঠাৎ এ বিষয়ে চিন্তা করি কেন, উত্তর ত্রিভুজ। আমার এক সহপাঠী সেখানে অভিজাত এক বালিকার সহিত মনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। সে বালিকাকে আবার Love/True Love করত এক অভিজাত বালক। আমার সহপাঠীকে সাইজ করা সে বালকের কাছে কঠিন কিছু নয়। যে দিন ঐ বালক আমার কাছে কথা গুলো বলে, আমার প্রশ্ন ছিল তুমি কিছু বলনা/ করনা কেন। উত্তর ছিল, “থাকনা, ওরা একে অপরকে True Love করে, আমার উচিত হবেনা এই matter টাই কোন problem creat করা। তাছাড়া আমার আরও Lover আছে।”

কত রঙ্গ দেখাইবাগো মাওলা.............!!!!!!

রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১০

ইতা কিতা রোগ বায়ে????


উছা বিদ্যালয় তখনও ছাইড়া দেইনাই তখন এই রোগের সূত্রপাত। নিতান্ত ফাইজলামির বশে একদা বন্ধু সমাজের সকলে রাত্রি বেলা কী মনে করিয়া যেন আড্ডা দিলাম। বাঘ্র শাবক পাইল রক্তের স্বাদ। তাহার পর হইতে ধরিল রাত্রিড্ডার রোগ।
আর এ রোগ পূর্ণতা পাইল মাধ্যমিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ অবকাশের সময়ে। আড্ডা রাত্রিতেই হওয়া চাই, দিনে আড্ডা দিলে আপনাদের (নিজেদের) নারী-নারী (লেডিস-লেডিস) মনে হইত।

বন্ধু সকলের ফলাফল আশানরূপ হওয়ায় কলেজ গমনের পূর্ব পর্যন্ত ইহা চলিল বাধাহীন ভাবে অবিভাবকদের নাকের ডগার উপর দিয়া। নিউটনের ৩য় সূত্রানুযায়ী পরীক্ষা ও ফলাফলের পূর্বে রাত্রিড্ডা বিষয়ক অপবাদ সমূহ সমান বলে তাহাদের ফিরায়া দিলাম।

কিন্তু বিপত্তি ঘটিল কলেজ গমনের পর। একেক জন একেক কলেজে ভর্তি হইবার পর দেখা দিল যোগাযোগ সংকট। কিন্তু রাত্রিড্ডা ততদিনে আমাদের সত্ত্বার অংশ ও খাদ্য হজমের অনাবশ্যক উপাদান হইয়া দাড়াইছে। বর্তমানে রাত্রিড্ডার অভাবে সকলের দৈনন্দিন কার্যকলাপ ও অধ্যয়ন বাধাগ্রস্হ হইতেছে। মনস্তাত্তিক ভাবে সকলে হইয়া পড়িয়াছি দূর্বল।

এমত অবস্হায় এ আশু সংকট মোকাবেলা করিবার উপায় খুঁজিয়া না পাইয়া দিশাহারা হইয়া পড়িয়াছি।

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১০

সাহারা খালারে ভালা পাই


বয়সে অতি ছোট হওয়ায় রাজনীতি বুজলেও করার বা কোন দল সমর্থনের সুযোগ নাই। আর বড় ভাইরা নিজেরা যেমনে কোবাকোবি করে সেইটা দেইখাও ভয় পাই আর মুরুব্বিগো চুরি করার ভাও দেইখা আগ্রহও হারায়া ফালাইছি। সুতরাং কোন দলের সমর্থনের প্রশ্নই আসেনা। আর বিশেষ ভাবে তো কাওরে অবশ্যই না।

তবে আইজ সাহারা খালারে ভালা পাইতাছি। যেনে স্কুল-কলেজ ১০ রমযানে বন্ধ দেওয়ার কথা, খালা আইজকাই বন্ধ দেওয়ার নির্দেশ দিয়া দিছে। মনডা খুশিতে আকুপাকু করতাছে। আপনারে যে কি বইল্লা ধন্যবাদ দিমুগো খালা।
যাইহোক আপনারে আর ধন্যবাদ দিয়া ছোট করবার চাইনা। ভবিষ্যতে আপনার এই রকম আরও মহতি উদ্যোগে আমরা জুনিয়র ছাত্র সমাজ আপনার পাশে আছি।

উত্তপ্ত মস্তিষ্কের আনুভূতি

আমি জানিনা কী লিখব
এটি নয় কোন কবিতা
এ হল উদ্দেশ্যহীন ভাবে পথ চলা
রঙিন ফানুস আর শিশুর খেলা
এসব প্রাণহীন জড়তা।

আমি জানিনা ভবিষ্যত
জানিনা কী হবে
হয়ত সৌভাগ্যের চাবি পাবো হাতে
কিংবা জীবন ভরে উঠবে শতশত ক্ষতে
জানিনা সেদিন আসবে কবে?

আমি জানিনা কিছুই না
তবে মনে থাকে আশা
হয়তবা কাকতলীয় কোন দিনে
তাকে দেখে ঝড় উঠবে মনে
স্পষ্ট নয় সব ভাসা ভাসা।

বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০১০

স্থানীয় কিশোর গ্রুপ : মারামারি-বড়ভাই খেলা

আলোচ্য সমস্যাটি নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমানে এর প্রকোপ চরম মাত্রায় বৃদ্ধি ও চলমান আইন শৃঙ্খলার অবনতি, ইভটিজিং, ছিনতাই ইত্যাদির সাথে গভীর সম্পর্ক থাকায় আমার এই পোষ্টের অবতারণা।

এলাকায় এলাকায় স্থানীয় কিশোরদের গ্রুপ থাকবে এটা খুব স্বাবাভিক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর বাইরেও বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন কিশোররা নিজেদের মধ্যে বিশেষ গ্যাং তৈরি করছে এবং বিভিন্ন অপকর্মের সাথে হরহামেশাই যুক্ত হচ্ছে। এসব গ্রুপে দু'একজন লিডারও বিদ্যমান। অনান্য গ্রুপের সাথে ঝামেলা তৈরি বা মারামারি করতে এরা যে কোনো বিষয় বেছে নেয় এবং বিষয় গুলো খুবই নগন্য। মারামারিতে এরা লাঠি, হকিস্টিক, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি ব্যবহার করে। বড় ধরণের হানাহানি না করলেও তারা প্রতিপক্ষের সাথে দু'একটা ছুরি চাপাতির পোচ বিনিময় করে। পরবর্তীতে অপরপক্ষ এই পক্ষের কাউকে একা পেলে তাকে ১০-১২ টা সেলাইয়ের জন্য হাসপাতালে যেতে হয়। তবে যে যত কোপ খাবে সে তত পপুলার আর বড়ভাই হওয়ার জন্য উপযুক্ত হবে।

বড়ভাই নামক বস্তুটি এখানে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেক গ্রুপ নিদিষ্ট বড়ভাইয়ের নিয়ন্ত্রনে থাকে। যে কোন ক্যাচাল বা মারামারির চূড়ান্ত সমাধান বড় ভাইদের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ বিচার গুলো থানা পর্যন্ত পৌছায় না। আর কিশোর গ্রুপের এইসব বড়ভাইয়েরা স্থানীয় পাতি নেতাদের চামচা। তারা কিশোরদের চা-বিস্কুট আর ছুরি চাপাতির যোগানদাতা।

ঝগড়া বা ক্যাচাল বাজানোর জন্য তারা নগন্য বিষয় ব্যবহার করে কিংবা ন গন্য বিষয়ে তারা ক্যচাল তৈরী করে। ক্লাসে সিট নিয়ে ঝগড়ায় আমি ২৫ কিমি দুর থেকে ৫০-৬০ জনকে নিয়ে আসতে দেখেছি (সবার কাছেই কোননা কোন জিনিস ছিল)। খেলা দেখার সময় জোরে চিৎকার দেওয়া নিয়ে ৫-৬ জনকে হাসপাতালে যেতে দেখেছি। আর স্কুল নিয়ে তর্ক করতে গিয়ে চট্টগ্রামে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র খুন হওয়ার কথা পত্রিকায় পড়েছি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে কেন কিশোররা এরকম করছে। উত্তর কঠিন কিছু নয়- ত্রুটিপূর্ণ মানসিক বিকাশ, নিজেকে বড় ভাবার প্রবল ইচ্ছা, পারিবারিক শিক্ষার অভাব ইত্যাদি। অনেকে আবার বিষয়টিকে বিনোদনের দৃষ্টিতেও দেখে! এই কিশোর গ্রুপ গুলোতে যেমনি রয়েছে ভাল পরিবারের সন্তান তেমনি রয়েছে বস্তির ভবঘূরে। অনেক ভাল পরিবার ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে এই কিশোর অপরাধের কারণে। ভাল এক ছাত্র বখে যাওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সে ভবিষ্যৎ এ কী করবে..... নিলিপ্ত জবাব মাদক ব্যবসা!!!!

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল তারা এখন নিজেদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখছে। প্রশাসন বিষয়টি জানলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছেনা কারণ রাজনৈতিক সহিংসতায় কিশোরদের ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার করা হয়।

কিশোরদেরকে পরিপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক শিক্ষা, নিজেকে ব্যস্ত রাখার জন্য সৃজনশীল কাজ ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে পারলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

দেশের ভবিষ্যৎ যুবশক্তি তথা জাতীয় শক্তিকে রক্ষা করতে এখনই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে নতুবা আমাদের সামনে কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে......